ব্যবসা শুরু করার পূর্বে কিছু মাইন্ড হ্যাক সম্পর্কে ধারণা নিন

thumbnail

নতুন ব্যবসা শুরু করাটা যেমন উত্তেজনামূলক, ঠিক তেমনি কষ্টকরও বটে। একদিক থেকে খেয়াল করলে একজন উদ্যোক্তা মূলত তার স্বপ্নের দিকে দৌড়াতে থাকেন কিন্তু অন্যদিক থেকে দেখলে একজন উদ্যোক্তা মূলত তার স্বপ্নের দিকে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর বিবাদ নিয়েই এগুতে থাকেন। আপনি যদি একজন উদ্যোক্তা হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই আপনার ক্রেতার সাইকোলজিক্যাল প্রোফাইল সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। শুধু তাই নয়, আপনাকে জানতে হবে কিভাবে আপনার ক্রেতার সাইকোলজিক্যাল প্রোফাইল ব্যবহার করে সেটাকে ম্যানুপুলেট করা যায়। আজকের আর্টিকেলটি এমন কিছু মাইন্ড হ্যাকস নিয়েই।

ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে রঙয়ের ব্যবহার করুন

একটা ব্র্যান্ডের প্রচারণা ও প্রসারের জন্য রঙয়ের গুরুত্ব অনেক বেশি। উইনিপিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে করা একটা রিসার্চে দেখা গিয়েছে যে, ৯০ শতাংশ ক্রেতাই কোনো পণ্য ক্রয় করার সময় সেই পণ্যের রঙ আর ডিজাইনের প্রতিই শুরুতে আকৃষ্ট হয়ে থাকেন। কিন্তু কীভাবে আর কোন কোন রঙয়ের সমন্বয় ব্যবহার করলে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা সহজ হবে সেটা সম্পর্কে জানতে হলে নিচের লিস্টটির দিকে খেয়াল করুন,

  • ক্রেতাকে কোনো পণ্যের ক্ল্যারিটি বোঝাতে চাইলে হলুদ রঙ ব্যবহার করুন।
  • ক্রেতাকে কোনো পণ্যের বিশ্বস্ততা সম্পর্কে ধারনা দিতে চাইলে খয়েরী রঙ ব্যবহার করুন।
  • ক্রেতাকে কোনো পণ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে আকৃষ্ট করতে লাল রঙয়ের ব্যবহার করুন।
  • ক্রেতাকে কোনো পণ্যের অভিজ্ঞতা আর দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা দিতে চাইলে বেগুনি রঙ ব্যবহার করুন।
  • কোন পণ্য কতটা শক্তিশালী আর বিশ্বস্ত সেটা বুঝাতে চাইলে নীল রঙ ব্যবহার করুন।
  • স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো পণ্যের ক্ষেত্রে সবুজ রঙ ব্যবহার করা উচিৎ।
  • ক্রেতাকে আপনার পণ্যের সাদসিধে অবস্থা বুঝাতে চাইলে সাদা অথবা ধুসর রঙয়ের ব্যবহার করুন।

কঠিন ভাষার ব্যবহার না করে সহজ ভাষা ব্যবহার করুন

আপনার ক্রেতাকে আপনার কোম্পানি বা ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা দেয়া থেকে শুরু করে একেবারে প্রত্যেকটা পণ্যের বর্ণনা দেয়ার ক্ষেত্রে শুদ্ধ আর সহজ ভাষার ব্যবহার করুন। আপনার কোম্পানিটা মূলত কি নিয়ে, ব্যবসার মূল লক্ষ্যটা কি, কারা আপনার ক্রেতা সেটা নিয়ে সহজে বোঝানোর চেষ্টা করুন ক্রেতাদের। ক্রেতারা কেন আপনার থেকেই পণ্য ক্রয় করবে, কেন আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিকট থেকে নয়, আপনার পণ্যেগুলোর সুবিধা, অসুবিধা ইত্যাদি সবকিছুই শুদ্ধ আর সহজে বোঝানোর চেষ্টা করুন। কীভাবে ক্রেতারা আপনার থেকে পণ্য ক্রয় করতে পারে, এতে তাদের লাভ কি হবে, কোনো অফার থাকলে সেটার বিশ্লেষণাত্মক বর্ণনা, পণ্যের বিশ্লেষণাত্মক বর্ণনা এবং মূল পরিশোধের নিয়মাবলীসহ প্রায় প্রত্যেকটা বিষয় নিয়েই সহজ ভাষায় বর্ণনা করার চেষ্টা করুন।

আপনার বিজ্ঞাপণকে আকর্ষণীয় করে তুলুন

বিহেভিয়ার এন্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি নামে একটা রিসার্চে দেখা গিয়েছে যে, একজন ক্রেতা আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করবে কি না কিংবা আপনার পণ্য ক্রয় করবে কি না সেটা প্রথম ৫০ মিলিসেকেন্ডেই চিন্তা করে নেয়। সেজন্য অবশ্যই আপনার বিজ্ঞাপণকে বেশ শক্তিশালী আর আকর্ষণীয় হতে হবে, যাতে ক্রেতা আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপণ দেখার সাথে সাথেই সেটা ক্রয় করতে রাজি হয়ে যায়। চাইনিজ একটা প্রবাদ আছে,

একটা ছবি হাজারটা শব্দের চেয়েও বেশি ভারী।

সুতরাং, চেষ্টা করুন যত বেশি এবং যতটা সম্ভব পারা যায় সঠিক স্থানে ছবির ব্যবহার করতে। ইভান টার্গনেভের আরেকটি বিশেষ উক্তি হচ্ছে,

একটা ছবিই আমাকে পুরো বই সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।

নিউরোসায়েন্সের সঠিক ব্যবহার করতে শিখুন

আপনার ব্রেইনে উৎপন্ন কিছু কেমিক্যাল আর কিছু ইমোশনাল অবস্থান আপনাকে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। আর এজন্য আমাদের নিউরোসায়েন্সের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। সফলতার পেছনের নিউরোসায়েন্টিফিক ব্যবহারটা যদিও বেশ জটিল, কিন্তু এটা মূলত আমাদের ব্রেইন ফাংশন কিভাবে কাজ করে সেটা সম্পর্কে ধারণা দেয়। আমাদের ব্রেইন ফাংশন মূলত তিনটি আলাদা আলাদা এরিয়াতে বিভক্ত। যেগুলো হচ্ছে, রেটিকুলার অ্যাক্টিভেটিং সিস্টেম বা আরএএস, দ্যা রিলিজ অফ ডোপামিন এবং দ্যা মেমোরি। যার মধ্যে সফলতার ওষুধ হিসেবে প্রথম দুটোকে ব্যবহার করা উচিৎ।

রেটিকুলার অ্যাক্টিভেটিং সিস্টেম বা আরএএস

আমাদের ব্রেইনের যেখানে স্পাইনাল কর্ড রয়েছে সেখানেই এই আরএএস বা রেটিকুলার অ্যাক্টিভেটিং সিস্টেম অবস্থান করে। আরএএস মূলত আমাদের ব্রেইনের কগনিটিভ ফাংশনগুলোকে ইনফ্লুয়েন্স করে সেখানে ফিল্টারিংয়ের কাজ করে থাকে। এই ফিল্টার মুলত আমাদের ব্রেইনের ৮০ লক্ষ বিটের তথ্যাবলীকে রিফাইন করে, যেগুলো আমাদের অজান্তেই ব্রেইনে বাহিত হচ্ছে। সহজ ভাষায়, এটা মূলত ব্রেইনের ‘হোয়াইট নয়েজ’গুলোকে মুছে দেয়। যখন একটা তথ্য বা অনুভূতি কিংবা কোনো চিন্তা আমাদের ব্রেইনে আমরা ধরতে পাই তখন সেটা মূলত সেই ফিল্টারিংয়ের পরেই ঘটে থাকে, যেটার মূল কারণ হচ্ছে এই আরএএস।

আরএএস মূলত আমাদের ব্রেইনের সকল অপ্রয়োজনীয় চিন্তাভাবনা আর অনুভূতিগুলোকে রিফাইন করে তারপরে যেগুলো আমাদের দরকার শুধুমাত্র সেগুলোকেই আমাদের জ্ঞানের মধ্যে পাঠায়। তাহলে এর মানে দাঁড়াচ্ছে, আপনি যখন যে বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করবেন, আরএএস মূলত তখন সেই বিষয়টার সাথে সংযুক্ত সকল চিন্তাভাবনাগুলোকে আপনার কাছে রিফাইন করে পাঠাবে। আর এজন্য এই নিউরোসায়েন্টিফিক মেথডে অর্থাৎ আরএএসের সঠিক ব্যবহারের জন্য আপনার উচিৎ হবে শুধুমাত্র আপনার মূল লক্ষ্য নিয়ে চিন্তাভাবনা করা। যত বেশি আপনি আপনার লক্ষ্য নিয়ে ভাবতে থাকবেন তত বেশি রিফাইন করা চিন্তাভাবনা আর অনুভূতি আপনার মাঝে আরএএস পাঠাতে থাকবে।

ডোপামিন ফিডব্যাক লুপ

যখন আমরা আনন্দিত হই বা উত্তেজিত হই কিংবা সফল হই তখন আমাদের ব্রেইনে এক ধরনের নিউরোকেমিক্যালের বন্যা বইতে শুরু করে, আর সেটা হচ্ছে ডোপামিন। ডোপামিন শুধুমাত্র আপনার সফলতার নিউরোট্র্যান্সমিটিং রিওয়ার্ডই নয়, বরঞ্চ এটার ফলে খুব সহজেই আপনার ব্রেইনকে আপনি আরো বেশি সুখী, খুশি আর উত্তেজিত রাখতে পারবেন। আর সেজন্য সফলতার দিকে এগুনোর সাথে সাথে সফলতার কথা চিন্তা করে খুশি হওয়াটাও উচিৎ।


One thought on “ব্যবসা শুরু করার পূর্বে কিছু মাইন্ড হ্যাক সম্পর্কে ধারণা নিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

 

Back To Top