১০০০০ টাকায় শুরু করতে পারবেন এমন কিছু ব্যবসা (দ্বিতীয় পর্ব)

thumbnail

কখনো কি আপনি নিজের একটা ব্যবসা দাঁড় করাতে চেয়েছেন? কিন্তু আপনাকে অর্থ আর পুঁজির দিকে তাকিয়ে পেছনে সরে আসতে হয়েছে? যদি এই দুটো প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়ে থাকে, তাহলে আজকের এই আর্টিকেলে আপনি একেবারে কম পুঁজিতে করা সম্ভব এমন দশটি ব্যবসা সম্পর্কে জানতে পারবেন। দুই পর্বের এই ফিচারের আজকে হচ্ছে দ্বিতীয় পর্ব। প্রথম পর্ব পড়ুন এখান থেকে

ব্লগিং

আপনি যদি বাংলা বা ইংরেজিতে লিখতে পছন্দ করেন তাহলে একজন ব্লগার হিসেবে নিজের ব্লগে লিখেই বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারবেন। ১০০০০ টাকাতেই নিজের ব্লগ তৈরি করে সেখানে লিখে ও মার্কেটিং করে বেশ ভালো অংকের অর্থ আয় করা সম্ভব। ঘরে বসেই ১০০০০ টাকায় এর চেয়ে ভালো ব্যবসা খুবই কমই হয়ে থাকে।

ইন্টেরিয়র ডিজাইন

যাদের ডিজাইন ও আর্কিটেকচারের উপর দক্ষতা আছে তারা নিজেদের তৈরি ইন্টেরিয়র ডিজাইন এজেন্সিতে ব্যবসা করতে পারেন। প্রায় প্রত্যেক হোমওউনার ও ব্যবসায়ীরাই বর্তমানে ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের ভাড়া করে থাকে তাদের ঘরগুলোকে সুন্দর করে সাজাতে। চাইলে ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমেও এই সেবা প্রদানের ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। তাও আবার একেবারেই কম পুঁজিতে।

প্রোগ্রামিং

আপনি যদি প্রোগ্রামিং ভাষায় দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে প্রোগ্রামার ভাড়া দেয়ার ব্যবসাও শুরু করতে পারেন। বর্তমানে অনেক কোম্পানি আছে যারা তাদের কাজগুলো করানোর জন্য ভাড়ায় প্রোগ্রামার খুঁজে থাকে। আপনি চাইলে সেসব কোম্পানিতে প্রোগ্রামার ভাড়া দেয়ার কাজ করতে পারেন। এতে করে খুব সহজেই আপনার ব্যবসাকে আপনি ঘর থেকেই নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন। এর জন্য এত বেশি পুঁজিরও দরকার পড়বে না।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট

বর্তমানে প্রায় প্রত্যেকটা কোম্পানিতেই ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্টের প্রয়োজন পড়ে। আপনি চাইলে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট দেয়ার ব্যবসাও শুরু করতে পারেন। এতে করে খুব সহজেই আপনার ব্যবসাকে আপনি ঘর থেকেই নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন। এর জন্য এত বেশি পুঁজিরও দরকার পড়বে না।

সোশ্যাল মিডিয়া কন্সালটেন্ট

শুধুমাত্র সময় অতিবাহিত করার জন্যেই নয়, বর্তমানে প্রত্যেক কোম্পানিই তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার পেইজ কিংবা প্রোফাইলগুলোতে তাদেড় বিজ্ঞাপণ ও প্রচারণার কাজে সচল। আর আপনার যদি এসব বিষয়ে দক্ষতা থাকে তাহলে আপনি একজন সোশ্যাল মিডিয়া কন্সালটেন্ট হিসেবেও নিজের সার্ভিস প্রদান করতে পারবেন। ঘরে বসেই কাজটা করা সম্ভব। এমনকি এত বেশি পুঁজিরও দরকার পড়ে না এই কাজের জন্য।

প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট

ভার্চুয়ালি অনেক কোম্পানিই আছে যারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টগুলোকে ভার্চুয়াল প্রজেক্ট ম্যানেজার দিয়ে করিয়ে থাকে। আপনি চাইলে সেসব প্রজেক্ট ম্যানেজারের কাজ করে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারবেন। প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজের জন্য আপনাকে এতটা সময় কিংবা পুঁজি বিনিয়োগ করতে হবে না। ঘরে বসেই কাজটা করা সম্ভব বলে কোনো ঝামেলা ছাড়াই এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন।

সেক্রেটারিয়াল সার্ভিস

এমন অনেক কোম্পানি আছে যাদের সেক্রেটারিয়াল কাজগুলো, যেমন – প্রুফরিডিং, ডাটা ডাইভিং, টাইপিংসহ বিভিন্ন ধরণের ছোটোখাট কাজ করার জন্য মানুষের দরকার পড়ে। আপনি যদি এসব বিষয়ে অভিজ্ঞ হয়ে থাকেন তাহলে একজন সেক্রেটারিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে এই ব্যবসা কম পুঁজিতেই শুরু করতে পারেন।

ক্যাটারিং

বর্তমানে প্রত্যেক অনুষ্ঠানেই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দরকার পড়ে। আর একইসাথে প্রয়োজন পড়ে ক্যাটারিং সার্ভিসের। আপনার কাছে যদি দক্ষ লোকবল থাকে ও এই কাজ করার মনমানসিকতা রয়েছে এমন জনবল থাকে তাহলে আপনি কম পুঁজিতেই নিজেদের ক্যাটারিং সার্ভিসের ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

মোবাইল রিপেয়ার

প্রত্যেকটা মানুষের হাতেই আজকাল নতুন মোবাইল দেখা যায়। আর টেকনলোজি যত বাড়ছে একইসাথে সেটাতে সমস্যাও বাড়ছে। যার ফলে মোবাইল নষ্ট হয়ে গেলে একজন ভালো রিপেয়ারের প্রয়োজন সবসময়েই। আপনি যদি মোবাইল রিপেয়ার করায় দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে মাত্র ১০০০০ টাকা পুঁজিতেই এই মোবাইল রিপেয়ারের কাজ করতে পারেন।

রিজ্যুমি রাইটিং সার্ভিস

নিত্য নতুন চাকরির পাশাপাশি বাড়ছে পদের সংখ্যাও। কিন্তু একইসাথে পাল্লা দিয়ে কমছে মানুষের সময়। আর তাই বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষই তাদের নিজেদের রিজ্যুমি বা সিভি অথবা কাভার লেটার নিজে লিখতে চান না। আপনি যদি এই বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে একজন সিভি রাইটার কিংবা রিজ্যুমি রাইটার হিসেবেও আপনার কাজগুলোকে প্রমোট করতে পারেন। আর একইসাথে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থও আয় করতে পারবেন। যেটার জন্য ১০০০০ টাকা পুঁজি যথেষ্ট।

ডোমেইন নেইম বাই সেল

এই কাজটি অনেক আগে থেকেই প্রচলিত। আপনি চাইলে এই কাজটি নতুন করে শুরু করতে পারেন। যেহেতু ব্যবসা বাড়ছে, সেহেতু অনলাইনে এর চাহিদাও বাড়ছে। যেকোনো ব্যবসাকে ডিজিটালাইজ করার জন্য ওয়েবসাইটের প্রয়োজন পড়ে আর একইসাথে প্রয়োজন পড়ে ডোমেইন নামের। এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে যারা অনেক অল্প মূল্যে ডোমেইন নেইম বিক্রি করে। আপনি চাইলে সেসব ডোমেইনগুলো ক্রয় করে সেগুলোকে আবার বিক্রি করতে পারেন বেশি দামে। আর এর ক্রেতার কখনোই অভাব হবে না।

ওয়েবসাইট ফ্লিপিং

আপনার যদি ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট করার দক্ষতা থাকে তাহলে ডেমো ওয়েবসাইট তৈরি করে সেগুলোকে বিক্রি করেও বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারেন। একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকার বেশি খরচ হয় না, যদিও ওয়েবসাইটের অবস্থা আর ধরণের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। কিন্তু আপনি যদি ডেমো ওয়েবসাইট তৈরি করেন তাহলে একেবারে কম হোস্টিং আর কমদামি ডোমেইন ক্রয় করে খুব কম খরচেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। আর তারপরে সেটাকে নির্দিষ্ট ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দিতে পারবেন।

অনলাইনে হোক কিংবা অফলাইনে, মাত্র ১০০০০ টাকায় ব্যবসা করা এখন একেবারেই সহজ। আপনার যেকোনো আইডিয়াকেই যদি ব্যবসায় রুপান্তরিত করতে চান তাহলে অল্প খরচেই সেটা করা সম্ভব।

3 thoughts on “১০০০০ টাকায় শুরু করতে পারবেন এমন কিছু ব্যবসা (দ্বিতীয় পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

 

Back To Top