১০০০০ টাকায় শুরু করতে পারবেন এমন কিছু ব্যবসা (প্রথম পর্ব)

thumbnail

কখনো কি আপনি নিজের একটা ব্যবসা দাঁড় করাতে চেয়েছেন? কিন্তু আপনাকে অর্থ আর পুঁজির দিকে তাকিয়ে পেছনে সরে আসতে হয়েছে? যদি এই দুটো প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়ে থাকে, তাহলে আজকের এই আর্টিকেলে আপনি একেবারে কম পুঁজিতে করা সম্ভব এমন দশটি ব্যবসা সম্পর্কে জানতে পারবেন। দুই পর্বের এই ফিচারের আজকে হচ্ছে প্রথম পর্ব।

ডিরেক্ট সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ

বাংলাদেশের অনেক অপারেটর রয়েছে যেগুলো তাদের কোম্পানির মার্কেটিংয়ের জন্য ও সেলসের জন্য ডিরেক্ট সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে লোক নিয়োগ দিয়ে থাকে। আপনি চাইলে সেসব কোম্পানিতে এই পদে কাজ শুরু করতে পারেন। এছাড়াও অনেক প্রাইভেট কোম্পানি আছে যারা এই পদে লোক নিয়ে থাকে। সেখান থেকেও তাদের পণ্যগুলোকে ১০০০০ টাকায় ক্রয় করে নিজেই সেগুলো বিক্রি করে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারবেন। এই ব্যবসা ঘরে বসেই ডিরেক্ট সেলসের মাধ্যমে করা সম্ভব।

কন্সালটিং

আপনার যদি নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে বেশ ভালো দক্ষতা থেকে থাকে, যেমন – লিগ্যাল এডভাইস প্রদান করা কিংবা প্রযুক্তির সাথে যুক্ত যেকোনো বিষয়ের সমস্যার সমাধান দেয়ায় অভিজ্ঞ হয়ে থাকেন তাহলে একজন কন্সাল্ট হিসেবে কাজ শুরু করে দিতে পারেন। আপনি চাইলে একটি ফেসবুক পেইজ কিংবা ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে নিজের সার্ভিসটাকে মার্কেটিং করুন। তাহলেই একটা কন্সাল্টিং এজেন্সি তৈরি করে সেখানে নিজের সার্ভিসটাকে ঘরে বসেই প্রমোট করতে পারবেন।

টিউটর

আপনি যদি নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে অনলাইনে কিংবা অফলাইনে নিজের টিউটর মিডিয়া তৈরি করতে পারেন। অনলাইনে করতে হলে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে অনলাইনে ভিডিও তৈরি করে নিজের টিউটর সেবা প্রদান করতে পারবেন। আর যদি অফলাইনে করতে চান তাহলে মাত্র ১০০০০ টাকাতেই যেকোনো স্থানে টিউটর মিডিয়া চালাতে পারবেন।

ইউটিউব ভ্লগিং

ভ্লগিং হচ্ছে ভিডিও লগিং, অর্থাৎ আপনার ক্যামেরা দিয়ে যেকোন মুহূর্তের ভিডিও তৈরি করে সেটা বিভিন্ন ভিডিও স্টোরিং ওয়েবসাইটে আপলোড করা। বর্তমানে অনেকেই ইউটিউবে নিজের তৈরি করা ভিডিও আপলোড করে অনেক টাকা আয় করছে। আপনিও চাইলে ঘরে বসেই যেকোন কন্টেন্ট বাছাই করে সেটার উপর ভিডিও তৈরি করে, সেটা আপলোড করে আয় করতে পারেন।

রেন্ট ইউর আইটেম

আপনার কাছে যদি বিভিন্ন পণ্য থাকে যেগুলো ভাড়া দেয়া সম্ভব তাহলে আপনি ফেসবুকে বা নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে আপনার পন্যগুলোকে ভাড়া দিতে পারেন। এভাবে বেশ সহজেই মাত্র ১০০০০ টাকাতেই নিজের রেন্টাল সার্ভিস বিজনেস ডেভেলপ করা সম্ভব। এই ব্যবসাটি ঘরে বসেই করা সম্ভব।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট

আপনার যদি ওয়েবসাইট তৈরি করার দক্ষতা থাকে তাহলে আপনি একটা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি তৈরি করে সেখানে আপনার সার্ভিসগুলোকে বিক্রি করতে পারেন। বর্তমানে প্রায় প্রত্যেক কোম্পানি, এমনকি প্রত্যেক মানুষেরই নিজস্ব পোর্টফোলিওর দরকার পড়ছে। যার ফলে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের মার্কেট বেশ চাঙ্গা। ঘরে বসেই মাত্র ১০০০০ টাকা পুঁজি নিয়েই নিজের পার্সোনাল ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস প্রদান করা সম্ভব।

হ্যান্ডিম্যান

আপনি যদি রিপেয়ারসহ বিভিন্ন ধরণের মেকানিক্যাল কাজে দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে নিজের ফেসবুক পেইজে কিংবা নিজের ওয়েবসাইটে এই সার্ভিসটি প্রদান করে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারবেন। প্রত্যেকটা ঘরে প্রায় প্রত্যেকদিনই বিভিন্ন ধরণের রিপেয়ারিং ও মেকানিক্যাল সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যার ফলে এই ব্যবসায় মাত্র ১০০০০ টাকা বিনিয়োগ করেই খুব সহজেই একজন হ্যান্ডিম্যানের সার্ভিস দিয়ে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করা সম্ভব।

মেন্যু প্ল্যানিং

বর্তমানে খাবারের সংখ্যার পাশাপাশি স্বাদের ভিন্নতাও বাড়ছে। যার ফলে দরকার পড়ছে মেন্যু প্ল্যানারের। একজন মেন্যু প্ল্যানার মূলত বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের খাবারের মেন্যু বাছাই করে দেন। আপনার যদি মার্কেট রিসার্চ করার দক্ষতা থাকে ও আপনি যদি খাবার নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন তাহলে একজন মেন্যু প্ল্যানার হিসেবেও নিজের ব্যবসা দাঁড় করাতে পারেন। নিজের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনার কাজটাকে আপনাকে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। বর্তমানে বেশিরভাগ রেস্টুরেন্টেই মেন্যু প্ল্যানারের প্রয়োজন রয়েছে।

ফুড অন্ট্রাপ্রিনিউয়ার

আপনি যদি বিভিন্ন ধরণের খাবার তৈরি করতে পারেন, তাহলে সেই খাবারগুলোকে নিজের ফেসবুক পেইজ কিংবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মার্কেটিং করিয়ে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারবেন। ঘরে বসেই শুধুমাত্র ফেসবুক কিংবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে, খাবার তৈরি করে সেটাকে যেকোন ডেলিভারি সার্ভিসের দ্বারা ডেলিভার করে নিজের ব্যবসা দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারেন। একজন খাদ্য উদ্যোক্তা সবসময়েই প্রশংসনীয়।

প্রফেশনাল অর্গানাইজার

আমরা জড়বাদী একটা পরিবেশে বসবাস করছি। সে হিসেবে স্বভাবতই, আমাদের প্রত্যেকের ঘরেই এমন কিছু পণ্য রয়েছে যেগুলোর জন্য পুরো ঘরের সৌন্দর্য ও অবস্থা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। যার ফলে, একজন প্রফেশনাল অর্গানাইজার মূলত একটা ঘরের অবস্থান বুঝে সেই ঘরকে সুন্দর করে অর্গানাইজ করতে সাহায্য করবে। আপনার যদি আর্কিটেকচার সম্পর্কে ধারণা থাকে এবং আপনি যদি অর্গানাইজিং কাজটাকে বেশ উপভোগ করে থাকেন তাহলে একজন প্রফেশনাল অর্গানাইজার হিসেবে ঘরে বসেই বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারবেন।

ডেলিভারি সার্ভিস

বর্তমানে প্রায় প্রত্যেকটা জিনিসই আমরা ঘরে বসে ক্রয় করতে পছন্দ করি, যার ফলে তৈরি হচ্ছে নিত্য নতুন অনলাইন ইকমার্স শপ। আর ইকমার্স দোকানের এই বৃদ্ধির কারণে বাড়ছে ডেলিভারি সার্ভিসের চাহিদা। আর তাই, আপনার যদি একটা মোটর বাইক কিংবা যেকোনো বাহন থেকে থাকে, তাহলে আপনি একজন ডেলিভারি সার্ভিস হিসেবেও কাজ করতে পারেন। বর্তমানে একাই নিজের ডেলিভারি সার্ভিস চালানো সম্ভব।

সেলিং ইনফরমেশন প্রোডাক্টস

আরেকজনের তথ্য বিক্রি করাটা আইনত দন্ডনীয়। কিন্তু আমি সেই ধরনের কোনো ব্যবসার কথা বলতে চাচ্ছি না। আমি বলছিলাম, আপনার যদি কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর দক্ষতা থাকে, তাহলে আপনি সেই বিষয়ের উপর ইবুক কিংবা ভিডিও অথবা আর্টিকেল লিখে, সেগুলো বিক্রি করেও বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারবেন। বর্তমানে অনেকেই এই ব্যবসার মাধ্যমে নিজের তৈরি করা ডিজিটাল পণ্যগুলোকে বিক্রি করছে ও বেশ লাভবান হচ্ছে। ঘরে বসেই নিজের ওয়েবসাইট কিংবা ফেসবুকের মাধ্যমে মাত্র ১০০০০ টাকাতেই নিজের এই ব্যবসাটি করতে পারবেন।

2 thoughts on “১০০০০ টাকায় শুরু করতে পারবেন এমন কিছু ব্যবসা (প্রথম পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

 

Back To Top