ব্যবসার ক্ষেত্রে নামের গুরুত্ব কতটুকু?

thumbnail

আপনি যদি ফেসবুক কিংবা গুগলের মতো কোম্পানির নামের দিকে তাকান তাহলে দেখতে পাবেন যে, তারা তাদের নামকে যথেষ্ট পরিমাণ গুরুত্ব দিয়েছে। তারা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের ব্যবসার নামকে মানুষের অজান্তে তাদের মাঝে যুক্ত করে দিয়েছে। এখন যদি ফেসবুক বা গুগলের মতো কোম্পানি তাদের নামকে পরিবর্তন করে তাহলে সেক্ষেত্রে আমাদের ততটা সমস্যা হবে না। তাই না?

২০১৬ সালের এফ এইট কনফারেন্সে মার্ক জাকারবার্গ একটি কোম্পানির নামকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই কনফারেন্সে একটা কোম্পানির নাম ছিলো ওয়ান-এইট হান্ড্রেড-ফ্লাওয়ারস ডট কম (1-800-flowers.com). তিনি দেখান যে, এই কোম্পানিটি হচ্ছে প্রথম কোনো কোম্পানি যার ওয়েবসাইট এড্রেসের মধ্যে রয়েছে তাদের ফোন নাম্বার। অনেক বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের নাম ঠিক করা উচিৎ। একটা কোম্পানিকে প্রথম মানুষ চিনে থাকে তার পণ্য বা সেবা দিয়ে নয়, বরঞ্চ তার নাম দিয়েই। সে হিসেবে নামের গুরুত্ব অনেক বেশি।

আপনার ব্যবসার ক্ষেত্রেও নাম বাছাইয়ের সময় বিভিন্ন বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরী। যেমন,

ফোন বুক ডিসকোভারি

ইন্টারনেটের আগে মানুষ ব্যবসার ফোন নাম্বার বা তথ্য জানার জন্য ফোন নাম্বার লেখা বইয়ের ব্যবহার করতো। বর্তমানে ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও অনেকেই অনলাইন ফোন বুক এবং বিজনেস লিস্টিং সাইটের সাহায্য নিয়ে থাকে। সে হিসেবে আপনার কোম্পানির নাম যদি প্রথম কয়েকটা অক্ষরের মধ্যে হয়ে থাকে তাহলে আপনার ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যে থেকে আপনার কোম্পানির নাম বাছাইয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। সুতরাং, অবশ্যই কোম্পানির নাম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আলফাব্যাটিক্যাল অর্ডারের দিকে খেয়াল রাখা জরুরী।

ফোন কল বৃদ্ধির জন্য

আমরা যখন কোনো মানুষের নাম আমাদের কন্টাক্ট অপশনে সংরক্ষণ করে রাখি তখন কিন্তু আমাদের তখন কিন্তু তার নামটাকেই আমরা গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আর ঠিক একইভাবে, কোম্পানির ক্ষেত্রেও তার নামটাই আমাদের কাছে সংরক্ষিত হয়। সেই কোম্পানির সিইও কিংবা ফাউন্ডারের নাম দিয়ে আমরা নাম্বার সংরক্ষণ করি না, বরঞ্চ কোম্পানির নামেই আমাদের কাছে সেই ফোন নাম্বার সংরক্ষিত হয়। ভালভাবে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন যে, আমরা দুভাবে একটা ফোন নাম্বার খুঁজে বের করতে পারি। প্রথমত, সেই কোম্পানির নাম্বারের কয়েকটা সংখ্যা টাইপ করে কিংবা সেই কোম্পানির নাম টাইপ করে।

এখন যদি আপনার কোম্পানির নামে কোনো সংখ্যা থাকে, যেটা আপনার ফোন নাম্বারের সাথে যুক্ত তাহলে আপনার কোম্পানির নাম্বার যেভাবেই খোঁজা হোক না কেন, সেটা পাওয়া সহজ হয়ে যাবে। এজন্যেই কোম্পানির নাম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এই বিষয়টার দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরী। অবাঞ্চিত আর অসংলগ্ন কোনো নাম্বার কোম্পানির নামে ব্যবহার করার চাইতে, ফোন নাম্বারের সাথে মিল রেখে কিছু ব্যবহার করাটা বুদ্ধিমানের কাজ। অন্যদিকে কোম্পানির নাম্বার যদি কোনো সাল কিংবা ছোটো কয়েক সংখ্যার মধ্যে হয়ে থাকে তাহলে সেটা দিয়েও সহজে সেই কোম্পানিকে মনে রাখা যায়।

সার্চ ইঞ্জিন ডিসকোভারি

২০১২ সালের দিকে, সার্চ ইঞ্জিনগুলো (যেমন: গুগল, ইয়াহু, বিং ইত্যাদি) শুধুমাত্র ওসব কোম্পানিকে তাদের সাইটে র‍্যাংক করাতো যাদের নাম আর ডোমেইন (ডোমেইন হচ্ছে কোম্পানির ওয়েবসাইটের নাম) একই কি-ওয়ার্ড দ্বারা যুক্ত ছিলো। অর্থাৎ, আপনার কোম্পানির নাম যদি হয়ে থাকে ‘প্রো অন্ট্রাপ্রিনিউয়ার’ আর ডোমেইনে যদি এই নামের কোনো শব্দই ব্যবহার না হয়ে থাকে তাহলে আপনার উচিৎ সে ডোমেইন বা নাম , যেকোনোটা একটাকে পরিহার করা। কারণ এতে করে সার্চ ইঞ্জিনগুলোর আপনাকে খুঁজে পেতে দুটো কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা ততটা অপ্টিমাইজেবল নয়। সুতরাং, সার্চ ইঞ্জিনে আপনার ব্যবসার প্রচারের জন্য অবশ্যই নাম বাছাইয়ের দিকে গুরুত্ব দেয়াটা জরুরী।

সরাসরি ওয়েবসাইট ভিজিটর বৃদ্ধি করে

যদি আপনার ব্যবসার নাম আর ডোমেইন একই হয়ে থাকে তাহলে আপনার কোম্পানিতে সরাসরি ভিজিটর বেড়ে যাবে, যা অনেক বড় একটু প্লাসপয়েন্ট। ধরুন, আপনার কোম্পানির নাম অনেক জটিল। আপনি সেই জটিল নামেরই ডোমেইন ক্রয় করলেন। এখন আপনার সাইটে বা আপনার ব্যবসা সম্পর্কে জানতে হলে আমাকে হয় আপনার কোম্পানির নামের দু একটা অংশ লিখে গুগলে সার্চ করতে হবে নাহয় আপনার কোম্পানির ওয়েবসাইটের ঠিকানা লিখতে হবে। যেহেতু আপনার ওয়েবসাইটের ঠিকানা অর্থাৎ ডোমেইন বেশ জটিল সেহেতু আমার পক্ষে সেটা মনে রাখাটা কষ্টকর। আর তাই আমাকে সার্চ ইঞ্জিনেই সেটা খুঁজতে হবে, যা সময় সাপেক্ষ ও ততটা ফলপ্রসূ নয়।

আপনার কোম্পানির ওয়েবসাইটের নাম যদি সহজ আর ছোট হয়ে থাকে তাহলে যে কেউ চাইলেই সেই ওয়েবসাইটের ঠিকানায় সরাসরি ভিজিট করতে পারবে। উদাহরণস্বরূপ, ফেসবুক কিংবা গুগলকেই ধরতে পারেন। তাদের ওয়েবসাইটের ঠিকানা এবং ব্যবসার নাম দুটোই এক। এমনকি তাদের নামের সহজ উচ্চারণ ও বানানের জন্যেও তাদের নামটা মনে রাখা একেবারেই সাবলীল হয়ে গিয়েছে। আমরা এখন ইন্টারনেটে কোনো কিছু খুঁজতে চাইলে ‘সার্চ’ শব্দটার চেয়ে ‘গুগল করা’ শব্দটাকে বেশি ব্যবহার করে থাকি।

এছাড়াও ব্যবসার নাম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরো বেশ কিছু বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরী,

  • ইউনিক কোনো কিছু চিন্তা করুন। নামের মাঝে নতুনত্ব নিয়ে আসার চেষ্টা করুন। নামটা উচ্চারণের সময় শুনতে যেন ভাল লাগে সেদিকেও নজর দিন। আপনার ব্যবসার নাম অন্যরকম কিছু রাখলে গ্রাহকের আকর্ষণ বাড়বে।
  • ব্যবসার নাম অযথা বড় রাখা উচিৎ নয়। আগেও বলেছি যে, এতে করে গ্রাহকের পক্ষে আপনার ব্যবসার নাম মনে রাখা কঠিন হয়ে যাবে। আবার এমন নাম রাখলেন, যা সহজে উচ্চারন করা যায় না তাহলে গ্রাহক আপনার দিকে নাও আসতে পারে কারন তারা বুঝতেই পারবে না আপনি কি বা কোন ধরনের সার্ভিস দিয়ে থাকেন।
  • ব্যক্তির নাম তার চরিত্রে বিশেষ প্রভাব ফেলে। ব্যবসার নামটি সেই ব্যবসার চরিত্রে কতখানি প্রভাব ফেলবে, তা বোঝা না গেলেও ভবিষ্যতে যে কিছু প্রভাব রাখবেই, সেটি কিন্তু সবাই আমরা জানি। তাই ব্যবসার নামকরণের আগে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে নজর না দিলেই নয়!

2 thoughts on “ব্যবসার ক্ষেত্রে নামের গুরুত্ব কতটুকু?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

 

Back To Top