ব্যবসা শুরু করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন

thumbnail

একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়াটা যেমন রোমাঞ্চকর ঠিক তেমনি কষ্টকরও বটে। একজন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য কোনো কলেজ ডিগ্রি কিংবা লক্ষ কোটি টাকা কিংবা অনেক জটিল কোনো ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতাও থাকার দরকার পড়ে না। কিন্তু সবচেয়ে বেশি যেটার দরকার পড়ে সেটা হচ্ছে, শক্তিশালি একটি প্ল্যান ও সেটাকে সফল করার অদম্য ইচ্ছা। যদি আপনি একটি নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান ও নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে চান তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যেই। এই আর্টিকেলে আমি বেশ কিছু কি-পয়েন্ট তুলে ধরবো যেগুলো মূলত একজন উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসাকে দাঁড় করানোর জন্য অতীব জরুরী।

নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে জানুন

শুরু করুন একেবারে ব্যাসিক একটি প্রশ্ন দিয়ে, কেন আপনি একজন উদ্যোক্তা হিসেবে একটা নতুন ব্যবসাকে গড়ে তুলতে চাইছেন? এই প্রশ্নটাই আপনাকে পরবর্তী ধাপগুলোতে সঠিক পথ দেখাতে সাহায্য করবে। যদি আপনার মূল লক্ষ্য হয়ে থাকে, অর্থ উপার্জন করা। তাহলে আপনার উচিৎ ফ্রিল্যান্সিং কিংবা অন্য যেকোনো চাকরিতে যোগদান করা। ব্যবসা আপনার জন্য নয়। কিন্তু আপনার ইচ্ছে যদি স্বাধীনতা পাওয়াটাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে, তাহলে আপনার উচিৎ এখনই সবকিছু ভুলে ব্যবসার দিকে মনোযোগ দেয়া।

যখন আপনার কাছে উপরের প্রশ্নটার সঠিক উত্তর মিলে যাবে, তখন আপনাকে নিজের উপর আরো কিছু প্রশ্নের গোলক নিক্ষেপ করতে হবে। যেগুলো হতে পারে,

  • আপনি কি জানেন?
  • আপনার প্যাশন কতটুকু এবং কোথায় নিহিত?
  • আপনি কোন কোন বিষয়ে দক্ষ?
  • আপনার পক্ষে কি পরিমাণ অর্থ ইনভেস্ট করা সম্ভব?
  • আপনার কি পরিমাণ অর্থের দরকার পড়বে এই ব্যবসাকে তুলে ধরতে?
  • আপনি ব্যবসা চলাকালিন অবস্থায় কিরকম জীবনযাপন করতে চান?
  • আপনি কি একজন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য তৈরি?

ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে ভাবুন

আপনার কাছে কি অলরেডি ভালো কোনো ব্যবসায়িক আইডিয়া আছে? যদি থাকে, তাহলে আপনাকে অভিনন্দন। আপনি পরবর্তি ধাপে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। আর যদি আপনার কাছে ভালো কোনো ব্যবসার আইডিয়া না থাকে তাহলে আপনার এখন মূল কাজটা হবে, ব্যবসায়িক আইডিয়া খুঁজে বের করা। ব্যবসায়িক আইডিয়া খুঁজে বের করার জন্য আপনি নিচের বিষয়গুলো স্মরণে রেখে এগুতে থাকেন,

  • ট্রেন্ড ও বর্তমান সমস্যাগুলোর সমাধান দিয়ে ভাবুন
  • আপনার নিজের সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজুন
  • এমন বিষয়গুলো নিয়ে ভাবুন যেগুলো আপনার মনের ভেতর খোঁচায়
  • নতুন কোনো ক্যাটাগরি খুঁজে বের করতে পারেন, যেখানে এর আগে কেউ কাজ করে নি
  • আপনার দক্ষতাগুলোকে নতুন কোনো বিষয়ে কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন
  • বিভিন্ন চাকরির বিজ্ঞাপণ দেখুন। সেখানে ব্যবহৃত কাজগুলোকে নতুনভাবে করার প্ল্যানিং করতে পারেন
  • বর্তমানে যেসব পন্য বা সেবা রয়েছে সেটাকে আরো সহজ করে কিংবা দর কমিয়ে বাজার আনার প্ল্যানিং করতে পারেন
  • যারা ব্যবসার সাথে জড়িত তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন ক্রেতাদের চাহিদা নিয়ে

মার্কেট রিসার্চ করুন

উপরের ধাপগুলো সম্পন্ন করে থাকলে এবার নিজেকে আরেকটা প্রশ্ন করুন, আপনি যে কাজ বা আইডিয়াকে ব্যবসায় রুপ দিতে চাচ্ছেন সেটা এর পূর্বে কেউ করেছে? করে থাকলে কেন করেছে? আর না করে থাকলে কেন করেনি? আপনার পণ্য বা সেবা নিয়ে যারা কাজ করেছে তাদের কাছে যান, তাদের থেকে উত্তর বের করার চেষ্টা করুন। যারা করে নি, তারা কেন করেনি সেই উত্তরও একইসাথে পেয়ে যাবেন। আপনার প্রতিযোগীদের কাছে এই বিষয় নিয়ে যেসব উত্তর রয়েছে সেগুলোকে সংরক্ষণ করুন, বিশ্লেষণ করুন।

আপনার পণ্য নিয়ে ক্রেতাদের কাছে যেতে পারেন। ক্রেতাদের কাছে জিজ্ঞেস করুন, তারা এই ধরণের পণ্য ক্রয় করতে রাজি কি না। আর রাজি থাকলে কেন তারা এই পণ্য বা সেবা গ্রহণ করবে? তাদের উত্তরগুলোকে বিশ্লেষণ করুন। তাদের উত্তরের উপর নির্ভর করে আপনার পণ্য বা সেবার আপগ্রেড করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি যদি একজন ক্রেতা হয়ে থাকেন তাহলে এই পণ্যটা কেন ক্রয় করবেন? কি কি বিষয় দেখে আপনি এই সেবা গ্রহণ করবেন?

ফিডব্যাক গ্রহণ করুন

আপনার সেবাটিকে ক্রেতাদের কাছে তুলে দিন। তাদেরকে অফার ও ছাড়ের ভিত্তিতে আপনার সেবা বা পন্যটি গ্রহণ করার সুযোগ করে দিন। তাদের নতুনত্ব আপনাকে আপনার পন্যের সঠিক ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে। একইসাথে আপনার পন্য যদি ভালমানের হয়ে থাকে ও তারা যদি সেটা নিয়ে বেশ উপকার পেয়ে থাকে তাহলে আপনার প্রথম শ্রেণির ক্রেতা তৈরি হয়ে যাবে, যারা আপনার থেকেই সবসময় পণ্য বা সেবাটি গ্রহণ করতে চাইবে।

এই মেথডটাকে বলা হয়, দ্যা লিন স্টার্টআপ। এর তিনটি ধাপ হচ্ছে প্রটোটাইপিং, এক্সপেরিমেন্টিং ও পিভোটিং। অর্থাৎ আপনার পণ্যটি তৈরি করাটা হচ্ছে প্রটোটাইপিং। তারপর সেটাকে ক্রেতাদের কাছে তুলে দেয়া ও সেটাকে সম্পূর্ণরুপে ব্যবহার করতে দেয়াটা হচ্ছে এক্সপেরিমেন্টিং এবং সর্বশেষ পিভোটিং হচ্ছে, ক্রেতাদের ব্যবহৃত পণ্যের ফিডব্যাক নেয়া ও সেই অনুযায়ি আপনার পণ্যের আপগ্রেড করা।

অফিশিয়ালি ব্যবসা লঞ্চ করুন

আপনার উপরের ধাপগুলো সম্পন্ন করার সাথে সাথেই আপনার আইডিয়া ও ব্যবসাটাকে অফিশিয়ালি লঞ্চ করুন। এর মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন যে, কেউ আপনার সেই আইডিয়া গ্রহণ করে ফেলছে নাকি। অফিশিয়ালি আপনার আইডিয়াকে ব্যবসায় রুপান্তরিত করতে আপনি নিচের কাজগুলো করতে পারেন,

  • ব্যবসার স্ট্রাকচার তৈরি করুন
  • ব্যবসার নাম ঠিক করুন
  • আপনার ব্যবসাকে রেজিস্টার করুন
  • ট্যাক্স আইডি সম্বলিত কাগজপত্র উত্তোলন করুন
  • পারমিট ও লাইসেন্স গ্রহণ করুন
  • প্রয়োজনীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করুন
  • ট্রেডমার্ক, কপিরাইট ও পেটেন্টের সাথে সংযুক্ত কাজগুলো সম্পন্ন করুন।

ব্যবসার প্ল্যানিং তৈরি করুন

ব্যবসার প্ল্যানিং করা মানে হচ্ছে, আপনার ব্যবসাকে আপনি কীভাবে একেবারে ছোট থেকে বড় করবেন ও সেটাকে কীভাবে পরিচালনা করবেন। অনেকেই ব্যবসার প্ল্যানিং করার ক্ষেত্রে সঠিকভাবে এগুতে পারেন না। তাদের জন্য নিচের ধাপগুলো পালন করাটা জরুরী,

  • টাইটেল পেইজে আপনার ব্যবসার নাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিন
  • এক্সিকিউটিভ সামারি পেইজে আপনার ব্যবসার প্ল্যানিংয়ের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা যুক্ত করুন
  • বিজনেস ডেসক্রিপশন পেইজে আপনার ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিত লিখুন
  • মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি পেইজে আপনার ব্যবসাকে পরিচালনার সম্পূর্ণ মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি তৈরি করুন
  • কম্পিটেটিভ অ্যানালাইসিস পেইজে আপনার ব্যবসার প্রতিযোগীদের সম্পর্কে লিখুন, তাদের শক্তিশালি ও দুর্বল পয়েন্টগুলোকে চিহ্নিত করুন এবং আপনার সাথে তাদের মিল ও পার্থক্য বিশ্লেষণ করুন
  • আপনবার ব্যবসার ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানিং নিয়ে বিস্তারিত লিখুন
  • ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানিং ও অপারেশনাল প্ল্যানিং নিয়ে বিস্তারিত লিখুন
  • আপনার ব্যবসার অর্থ পরিচালনা ও ইনভেস্টমেন্ট সম্বলিত সকল তথ্যাবলি আলাদা করে লিখুন

সর্বশেষে আপনার ব্যবসায় ইনভেস্টর নিয়ে আপনার ব্যবসাটাকে সঠিক উপায়ে পরিচালনা করুন, যেভাবে আপনার ব্যবসার প্ল্যানিংয়ে বলা হয়েছে ঠিক সেভাবেই।

2 thoughts on “ব্যবসা শুরু করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন

Leave a Reply to LisaERori Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

 

Back To Top